সারা দেশব্যাপী বর্ষায়ন

২০১২,শুরু হলো বৃত্ত ভাঙার বছর। প্রথম সূযোর্দয়ই যেন জানান দিলো তার যাত্রা শুরুর বারতা। গত দিনগুলোর অভিজ্ঞতায় শুধু আমরাই নই, কুয়াশা মোড়ানো প্রকৃতিও হেসে উঠেছে এমন প্রখর রৌদ্রজ্জ্বল একটা দিনের আগমণে। নতুন বছরের আলোকিত সূচনায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বর্ষায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে সারা দেশব্যাপী।

আত্মজাগররেণর বছর ২০১১ থেকে আমরা শুরু করেছি মেডিটেশনকে গণমানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ। কোয়ান্টাম বর্ষ ১৯ এর সূচনালগ্নে পথে-প্রান্তরে, পার্কে, দোকান কিংবা অফিসে যেখানেই মানুষের সমাগম, আমরা পৌঁছে গেছি সুখী জীবনের মেডিটেশন নিয়ে।

কোয়ান্টাম বর্ষ ২০ এ দিকে দিকে সুখী জীবনের বাণী, কোয়ান্টামের বাণী ছড়িয়ে দেবার উদ্যোগ নিয়েছে কোয়ান্টাম পরিবারের প্রত্যেকেই। ঢাকা শহর জুড়ে প্রতিটি সেন্টার, শাখা, সেল আয়োজন করেছে বর্ষায়ন কার্যক্রম। নতুন বছরের সূর্যোদয়কে স্বাগত জানাতে এবং প্রতিবেশী পরিজনকে একাত্ম করতে বৃত্ত ভেঙে বেড়িয়ে এসেছন গ্রাজুয়েট, প্রো মাস্টাররা।

বর্ষায়ন কার্যক্রমে প্রথমেই ছিলো বৃত্ত ভাঙার বছর-২০১২ বিষয়ে আলোচনা, গুরুজীর কন্ঠে নতুন বছরের শুভেচ্ছাবাণী এবং এ বছরের উপহার নতুন মেডিটেশন সুখী জীবন-২।

মতিঝিল শাখা আর মগবাজার শাখার যৌথ উদ্যোগে রমনা পার্কে সকাল ৬টা ৩০মিনিটে আয়োজিত বর্ষায়ন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২৫০ মানুষ। ভোরের স্নিগ্ধ প্রকৃতিতে মেডিটেশনের আনন্দে অবগাহন করেছেন পার্কে হাঁটতে আসা অনেকেই। এছাড়াও মতিঝিল শাখার উদ্যোগে বর্ষায়ন হয়েছে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে, বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির এবং সার্কিট হাউজে।

মিরপুর সেন্টার সকাল ৭ টায় বোটানিক্যাল গার্ডেনে আয়োজন করেছে বর্ষায়ন কার্যক্রমের। এছাড়াও গাবতলী বাসস্ট্যান্ড, আসমা বিদ্যানিকেতন সহ মোট ১৬ টি স্থানে বেজেছে সুখী জীবনের সুর, নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মানুষ একাত্ম হয়েছে কোয়ান্টামের সাথে।

ধানমন্ডি শাখা বর্ষায়ন আয়োজন করে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে সকাল ৭টা ৩০মিনিটে আর ধানমন্ডি লেকে সকাল ৭টায় বর্ষায়নে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১০০ জন। ধানমন্ডি শাখার প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাজুয়েট, প্রো মাস্টার তাদের নিজ নিজ বাসায় আয়োজন করে যাচ্ছেন বর্ষায়নের।

মোহাম্মদপুর শাখা সংসদ ভবন সংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যানে সকাল ৭টায় আয়োজন করে বর্ষায়ন কার্যক্রম যাতে উপস্থিত ছিলেন ৪০জন।

উত্তরা শাখার আয়োজনে ৭নম্বর সেক্টর পার্কে প্রায় ২০০ মানুষ একাত্ম হয়েছেন বর্ষায়নে। এছাড়াও গ্রাজুযেট, প্রো মাস্টাররা উদ্যোগ নিয়েছেন নিজ নিজ বাসায় বর্ষায়ন আয়োজনের।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন শাহবাগ অফিসে আয়োজিত হয় বর্ষায়ন কার্যক্রম যাতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৮০ জন। এছাড়াও এবারই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল, শামসুন্নাহার হল, ফজলুল হক হল এবং সূর্যসেন হলেও অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ষায়ন।

চট্টগ্রামের কাতালগঞ্জ সেলের আয়োজনে জাতিসংঘ পার্কে বর্ষায়ন অনুষ্ঠিত হয় ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে। পাঁচলাইশ শাখা আয়োজনে ডিসি হিলে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন। আগ্রাবাদ শাখা আয়োজন করে জাম্বুরী মাঠে ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে।

রাজশাহী সেন্টার সকাল ৭টায় বড়কুঠী পদ্মার পাড়ে আয়োজন করে বর্ষায়ন কার্যক্রমের যেখানে উপস্থিত ছিলেন মোট ৫২৩ জন। এছাড়াও উপশহর প্রাইমারী স্কুলে, জিয়া পার্কে এবং সারদা অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয় বর্ষায়ন কার্যক্রম। রাজশাহী সেন্টারে নিয়মিত আসেন এমন প্রায় ২৫০ জন গ্রাজুয়েট, প্রো মাস্টার নিজ উদ্যোগে নিজ নিজ বাসা, দোকান এবং অফিসে আয়োজন করেছেন বর্ষায়ন।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সেলের আয়োজনে বর্ষায়নে উপস্থিত ছিলেন ৪০ জন।

সিলেট সেন্টার সহ বাগবাড়ি জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, জালালাবাদ, উপশহর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাতক, জগন্নাথ, শ্রীমঙ্গল, দক্ষিণ সুরমায় মোট ২৮ টি স্থানে আয়োজন করা হয় বর্ষায়ন কার্যক্রমের এবং সর্বমোট উপস্থিতি ১৩২৬ জন। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় সেলের আয়োজনে বর্ষায়নে উপস্থিত ছিলেন ৩৩জন।

খুলনা শাখার উদ্যোগে আবু নাসের হাসপাতালে সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে এবং নিরালা পার্কে সকাল ৭টায় বর্ষায়ন আয়োজন করা হয়। শিরিশনগরে নতুন ভেন্যুতে আয়োজিত বর্ষায়নে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন।

যশোরে বেনাপোল এ কাস্টমস হাউজ মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ষায়নে উপস্থিত ছিলেন ১৩৮ জন। এছাড়াও যশোর তথ্য অফিসে ভোর ৬ টা ৩০মিনিটে আয়োজিত হয় বর্ষায়ন। ১১ জন গ্রাজুযেট, প্রো মাস্টার নিজ উদ্যোগে বাসায় আয়োজন করেন বষার্য়ন।

দেশব্যাপী সকল শাখা সেলের উদ্যোগেই বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ষায়ন। বৃত্ত ভাঙার বছরে কোন দ্বিধা কোন জড়তা নয় বরং সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন কর্মব্যস্ত সুখী জীবনের জয়গানে সবাইকে শরীক করতে কোয়ান্টামের বাণী ঘরে ঘরে পৌছেঁ দেয়াই নতুন বছরে আমাদের করণীয়।